
Bahok News Bureau: গুড ফ্রাই ডে-এর তৃতীয় দিন যীশু খ্রিস্ট পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলেন। আর এই উপলক্ষ্যেই ইস্টার ডে পালন করা হয়। এটি মূলত খুশির উৎসব। নিরাশার বিরুদ্ধে আশার জয় উদযাপনের উৎসব হল ইস্টার ডে।
এবার আলোচনার বিষয় যখন ইস্টার ডে, তখন ‘ইস্টার এগ‘ (Easter Egg) তথা ইস্টারের ডিমের কথা হবে না, এমনটা সম্ভব নয়। এককথায় বলতে গেলে, এই দুইটি শব্দ বর্তমানে একে অপরের সমার্থক শব্দতে পরিণত হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ইস্টারের সঙ্গে ডিমের কী সম্পর্ক রয়েছে?
■ ইস্টারে ইস্টার ডিমের তাৎপর্য:
অনেকের মনেই হয়তো প্রশ্ন জাগে, ইস্টারের সঙ্গে ইস্টার এগের কী সম্পর্ক রয়েছে? (Why Easter is celebrated with eggs?) সেই রহস্যের সমাধান আজ এই প্রতিবেদনে করা হবে।

বহু জায়গায় ডিমকে প্রজনন শক্তি ও পুনর্জন্মের প্রতীক বলে মনে করা হয়। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্মে ডিমকে ঈসা মসীহার ‘শূণ্য’ কবরের প্রতীক বলে মনে করা হয়। কারণ এই কবর থেকেই ঈসা মসীহার পুনর্জন্ম হয়েছিল।
ইস্টার উৎসবে সাজানোর জন্য তৈরি ইস্টার ডিম (Easter Egg) ‘পাস্কাল ডিম’ নামেও পরিচিত। প্রাচীনকালে ইস্টার ডিমকে লাল রঙে রং করা হতো। লাল রঙে রং করার পিছনেও কাহিনী রয়েছে। মূলত ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময়ে তাঁর শরীর থেকে ক্ষরিত রক্তের স্মরণে পূর্বে ইস্টার ডিমগুলোকে লাল রং করা হতো।
■ ইস্টারের কাহিনী:
ঈসা মসীহার মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হওয়ার পরে ও তিনি ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পরে তাঁর অনুগামীরা হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেছিলেন এবং দুঃখের সাগরে ডুবে গেছিলেন। ‘ক্রুসিফিক্শিওন’ (Crucifixion) তথা ক্রুশবিদ্ধ করার ঘটনা শুক্রবার ঘটেছিল। শনিবারে ঈসাকে কবর দেওয়া হয়। এর পরের দিন অর্থাৎ রবিবারেই তিনি আবার জেগে উঠেছিলেন।

ঈসা মসীহার অনুগামীরা তাঁর মৃত্যুতে খুবই শোকাহত হয়েছিলেন এবং শোকপালন করে তাঁর স্মৃতিচারণায় মগ্ন ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই এক মহিলা এসে খবর দেন যে, ঈসা জীবিত আছেন। অনুগামীরা প্রথমে বিশ্বাস করেননি। কিন্তু পরে মহিলা আরও জোর দিয়ে বলায় তাঁরা অবশেষে বিশ্বাস করেন। এই খবর শুনে খুশির জোয়ার বয়ে যায় অনুগামীদের মধ্যে।
অনুগামীরা যখন বিস্তারে সবকিছু জানতে চাইলেন, তখন সংশ্লিষ্ট মহিলা পুরো ঘটনা বলতে শুরু করলেন। মহিলাটি জানান, তিনি যখন প্রার্থনা করার জন্য কবরে গেছিলেন তখন তিনি দেখেন যে, কবরকে আবৃত করার পাথর কবরের উপরে নেই। ওই পরিস্থিতিতে তিনি কবরে উঁকি মেরে দেখেন যে, কবরে প্রভু যীশুর শবদেহ সেখানে ছিল না।

এরপরে তিনি আরও জানান যে, এরপরেই তাঁর সামনে হঠাৎই এক দেবদূত প্রকট হন। সেই দেবদূত তাঁকে ঈসা মসীহাকে কবরের বদলে আশেপাশে খোঁজার উপদেশ দেন এবং সেখান থেকে চলে যান। এই কথা শুনে মহিলাকে কাঁদতে শুরু করলে তাঁর সামনে যীশু প্রকট হন এবং তাঁকে বলেন, “কেঁদো না। আমি জীবিত আছি। যাও সবাইকে গিয়ে বলে দাও যে, পরম পিতা পরমেশ্বরের পুত্র আবার পৃথিবীতে এসে গেছেন”। মহিলার কথা অনুযায়ী, এটা বলার পরেই তিনি চলে যান।
■ ইস্টার সানডে ইতিহাস (History of Easter Sunday):
প্রচলিত কথা অনুযায়ী, এই দিনেই প্রত্যেক বছর ইস্টার উৎসব পালন করা হয়। এটা যেহেতু শুক্রবারের তৃতীয় দিন রবিবারে পালন করা হয়। তাই, এই দিনটি ‘ইস্টার রবিবার’ তথা ‘ইস্টার সানডে’ (Easter Sunday) নামেও পরিচিত। বাইবেল অনুসারে, পুনর্জন্মের পরে ঈসা মসীহা প্রায় চল্লিশ দিন পৃথিবীতে ছিলেন। জীবিত থাকাকালীন তিনি নিজের অনুগামী ও শিষ্যদের জ্ঞান ও উপদেশ দেন। নীতি, কুনীতি, খারাপ-ভালো, ধর্ম-কর্ম, শান্তি এবং মানবতার বিষয়ে অবগত করেন। এরপরে যীশু পরমেশ্বরের কাছে ফেরৎ চলে যান।
Published on Sunday, 9 April 2023, 10:22 pm | Last Updated on Monday, 10 April 2023, 12:09 am by Bahok Desk








