বাহক নিউজ় ব্যুরো: বাংলা টেলি সিরিয়াল ও টেলি সিরিজের অভিনেত্রী রূপা ভট্ট্যাচার্যকে ইদানীং আমরা অনেকে চিনেছি। বিধানসভা ভোটের আগে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বেশ তীক্ষ্ণ বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছিল। লড়াকু মেয়েটি অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে আজকের রূপা ভট্ট্যাচার্য হতে পেরেছেন।
রূপা এমন একটা পরিবারে জন্মেছিলেন, যে পরিবারে মেয়ে সন্তানের অর্থ ছিল শুধুই ‘বোঝা’। চরম রক্ষণশীল পরিবারের রূপার বাড়ির লোকজন একে অপরকে বহুবার বলেছে ‘ওকে পড়িয়ে কি হবে’। পরিবারের মেয়েদের অনেক কিছু করতে নিষেধ ছিল। বাড়িতে মেয়ে সন্তান হয়েছে বলে লজ্জিত ও ছিল তারা। পরিবারের সাথে লড়াই করতে গিয়ে এমনও দিন গিয়েছে, যেদিনে রূপাকে খেতে দেওয়া হয়নি। নিজের বাড়ির ডাস্টবিন থেকেই পাউরুটির ফেলে দেওয়া পোড়া অংশটা খেতে হয়েছিল খিদের জ্বালায়।
মাত্র নয় বছর বয়েসে বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল তাঁর পরিবারে। অবশ্য পাত্রপক্ষ রাজি হয়নি। পুতুল খেলার বয়েসে পাত্রপক্ষের সামনে বসতে হওয়া মেয়েটা ভেবেছিল জীবনটা শেষ করে দেওয়ার কথা। কিন্তুু পরক্ষণেই মনে হয়েছিল, জীবন মানেই লড়াই, লড়াই করেই জীবন পাল্টাতে হবে।
এরপর একসময় কাজ খোঁজা শুরু করে সে। ১৯ বছর বয়েসে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল। এরপর একে একে ‘বউ কথা কও’, ‘রাত ভোর বৃষ্টি’, ‘জয় বাবা লোকনাথ’, ‘কৃষ্ণকলি’ প্রভৃতি সিরিয়ালে অভিনয় করেন রূপা। ‘ব্যোমকেশ’, ‘চেকমেটে’র মতো টেলি সিরিজেও অভিনয় করেন জীবন যুদ্ধের এই লড়াকু অভিনেত্রী।
আগামী দিনে আরো কিছু বড় প্রোজেক্টে দেখা যাবে রূপাকে। অভিনেত্রী রূপা ভট্ট্যাচার্য আজ অনেক পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, লাঞ্ছিত মেয়েদের অনুপ্রেরণার আরেক নাম।
Published on Thursday, 2 September 2021, 10:22 am | Last Updated on Thursday, 2 September 2021, 10:22 am by Bahok Desk









