হুগলির সিঙ্গুরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কলম ধরলেন অভিজিৎ দাস।

(এই সেকশনে লেখার দায় ও চিন্তাভাবনার দায় একান্ত লেখক/লেখিকার।)

Advertisements
Appy Family Salon AD Banner Use Code to get Discount

কোভিডের শুরু থেকেই হুগলি জেলার সিঙ্গুর ব্লক বারবার উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। কখনও বাড়িতে ২০ ঘন্টা পড়ে থেকেছে কোভিড আক্রান্তের মৃতদেহ, কখনও সিঙ্গুর ট্রোমা কেয়ার সেন্টার থেকে পালিয়েছে করোনা আক্রান্ত রোগী, আবার কখনও হয়েছে সিঙ্গুরে করোনা হাসপাতাল তৈরির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। একদিকে মাত্রা অতিরিক্ত সংক্রমন অন্যদিকে মানুষের উদাসীনতা সব মিলিয়ে সিঙ্গুরের অবস্থা বেশ বিপদজনক।

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিঙ্গুর ব্লক জুড়ে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। বর্তমানে সারারাজ্যে কোভিড নিয়ন্ত্রণে এলেও সিঙ্গুর রয়ে গেছে স্বমহিমায়। অবস্থা বেগতিক দেখে হুগলি জেলা প্রশাসন সিঙ্গুরকে রেড জোন হিসাবে ঘোষণা করে, শুধু তাই নয় সিঙ্গুর ব্লকের বড়া, গোপালনগর, বঞ্চিপোতা, আনন্দনগর প্রভৃতি পঞ্চায়েত গুলোকে সম্পূর্ণ লকডাউন করে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৮টা বাজলেই শুরু হচ্ছে পুলিশি অভিযান। দোকান খোলা থাকলেই পড়তে হচ্ছে পুলিশের রোষানলে। কখনও হুমকি, কখনও ফাইন, আবার কখনও সোজা থানায় তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। হয়ত পুলিশও নিরুপায়, তারা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আদেশ পালন করছে মাত্র। অথচ সেই সিঙ্গুরে আজ একসপ্তাহ যাবত ঘটে চলেছে এক অদ্ভুত ঘটনা। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ইসনকনের একটি শাখা সিঙ্গুর ব্লকের বুড়িগ্রাম শ্মশানে প্রশাসনের নাকে ঢগায় শুরু করেছে প্রকাশ্য মোচ্ছব। রোজ প্রচুর ভক্তের সমাগম হচ্ছে এবং হরিনামের তালে তারা হাত-ধরাধরি করে কোমর দোলাচ্ছে, যা দেখে কোভিড হয়ত নিজেও লজ্জা পাবে। ভক্তরা পাশাপাশি বসে প্রসাদ খাচ্ছে, সামাজিক দুরত্ব থেকে শুরু করে মাক্সের তেমন কোন বালাই নেই। রোজ এই জনসমাগম হচ্ছে প্রশাসনের অনুমতিক্রমেই। একদিকে দিন আনি দিন খাই মানুষগুলোর অসহায়তা, পুলিশি অত্যাচার অন্যদিকে চলছে ধর্ম বিক্রির টাকায় দানবাক্স ভরাবার অপরূপ লীলা। অথচ সিঙ্গুরের শিক্ষিত সচেতন সমাজ এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। সিঙ্গুরবাসী ধর্মাচরণের বিরোধী নয়, এই সিঙ্গুরই দেখিয়ে দিয়েছে ঈদের জুলুস আর রথযাত্রা একসাথে কিভাবে আয়োজন করতে হয়, সিঙ্গুরই দেখিয়েছে সত্যপীরের মন্দিরে কিভাবে নামাজের সূর আর ঘন্টার শব্দ মিলিয়ে দিতে হয়। তবে বর্তমানের কঠিন সময়ে সিঙ্গুরকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে এই মারন ধর্মাচরণ বন্ধ হওয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে সিঙ্গুর ও হুগলি জেলাপ্রশাসনের কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সমগ্র সিঙ্গুরবাসী।

Published on Tuesday, 20 July 2021, 10:44 am | Last Updated on Thursday, 22 July 2021, 9:01 am by Bahok Desk