
Bahok News Bureau: সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে আজব তথ্য। হ্যাঁ, ‘আজব’ই! কারণ, সেই তথ্য শুনে কার্যত অবাক সমস্ত মানুষ। গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমে বিদ্বেষমূলক টুইটের (Hateful Tweets) পরিমাণ বেশি দেখা দেয়। আর এই কারণটিকে কোনো ছোটখাটো কোনো কারণ বলে মনে করছেন না গবেষকরা। তাঁদের মতে, বর্তমান সমাজে যেহেতু মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিউজ সম্প্রচারের ব্যাপারে এবং মতামত তৈরির ব্যাপারে, তাই এই মাধ্যমে করা এক এক টুইট বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং এই জন্যই পরিবেশের অবস্থা বাদ দিয়েও সমাজের প্রভাব বিস্তারের নিরিখেও আবহাওয়ার চরম (Extreme Temperature) অবস্থা বেশ উদ্বেগের।
আরও পড়ুন: What is Operation London Bridge?: ‘অপারেশন লন্ডন ব্রিজ’ কী?
এই বিশেষ গবেষণাটি পরিচালিত হয় ‘পটসডাম ইন্সটিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের (Potsdam Institute for Climate Impact Research-PIK) তরফে এবং প্রকাশিত হয় ‘দ্য ল্যানচেট প্ল্যানেটারি হেলথ’ -এর উদ্যোগে। এই গবেষণাটি চলে বিজ্ঞানী ও লেখিকা আন্নিকা স্টেচিমেসারের (Annika Stechemesser) তত্ত্বাবধানে গবেষণা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে, টুইটের পোস্ট করার সংখ্যা ও টুইট শেয়ার করার সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখা গেছে মনোরম জলবায়ু অঞ্চলের বাইরে। টুইটারেত্তিদের আরও বেশি হিংস্র ও বিদ্বেষী হতে দেখা গেছে হয় যখন পরিবেশের তাপমাত্রা খুব বেশি হয় অথবা যখন খুব কম হয়”।
‘দ্য ল্যানচেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এর তরফে প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের বেশি হলেই টুইটারে বিদ্বেষমূলক টুইটের সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই টুইটগুলো মূলত কখনও দেখা গেছে বর্ণবাদকে (Racist Tweets) কেন্দ্র করে, আবার কখনও দেখা গেছে নারী বিদ্বেষকে (Misogynist Tweets) কেন্দ্র করে। এছাড়াও বহু টুইটে দেখা গেছে হোমোফোবিকের (Homophobic Tweets) ছোঁয়াও। আর এই রিপোর্টই এবার উদ্বেগের কারণ হয়ে গেছে।
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছিল ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। এই গবেষণায় নজরদারি চালানো হয়েছিল আমেরিকার ৭৭৩টি শহরের ৭৫ মিলিয়ন টুইটে। উল্লেখ্য, গবেষণাধীন সমস্ত টুইটগুলিই ইংরেজি মাধ্যমে ছিল। আপনি হয়তো ভাববেন, একজন মানুষ কীভাবে নিখুঁতভাবে একনাগাড়ে এত বছর ধরে নজরদারি চালাতে পারে? আপনার প্রশ্নটা একদম ভুল নয় যদিও। আপনার প্রশ্নের উত্তরে জানাই, এই গবেষণায় নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল মেশিন লার্নিং অ্যালগোরিদম (Machine-learning algorithm)। এই অ্যালগোরিদমের দৌলতেই প্রকাশ্যে আসে অবাক করে দেওয়ার মতো তথ্য।
তবে, শুধুমাত্র টুইটের সংখ্যা ও প্রকৃতির ওপর নজর রাখা হয়নি, একইসঙ্গে নজরদারি রাখা হয় সংশ্লিষ্ট শহরগুলির তাপমাত্রার ওপরেও। যা সম্মিলিতভাবে পেশ করে এমন অবিশ্বাস্য তথ্য, যা হয়তো মানুষকে শোনালেও মানুষ সহজে বিশ্বাস করতে চাইবেন না। কিন্তু, ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চলা গবেষণায় আবার এটাই দাবি করা হয়েছে যে, পরিবেশের তাপমাত্রা দ্বারা টুইটের প্রকৃতি প্রভাবিত হয়। এই গবেষণায় এও দেখা গেছে যে, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলিতে যখন তাপমাত্রা ১৫-১৮ ডিগ্রী তাপমাত্রা কমেছে, তখন বিদ্বেষমূলক টুইটের সংখ্যাও কমেছে।
আরও পড়ুন: Who founded Digha? : ‘দীঘা’র প্রতিষ্ঠাতা কে?, দীঘার কথা ইতিহাসের পাতায়- প্রথম পর্ব
এই প্রসঙ্গে ইউরোপীয়ান ডিজিটাল রাইটস নেটওয়ার্কের পলিসি হেড দিয়েগো নারাঞ্জো (Diego Naranjo) ‘দ্য গারজিয়ান’-এর সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “সাম্প্রতিক কর্পোরেট মডেলের সর্বাধিক অর্জনের লক্ষ্যতে এবার নিষেধাজ্ঞা জারি প্রয়োজন তথা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। যাতে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য যতটা সম্ভব বন্ধ করানো যায়। বড়ো ধরণের টেক সংস্থাগুলি মূলত মেরুকরণ জাতীয় কন্টেন্টের প্রচার ঘটায়। যে সংস্থা যত বড়ো, সেই সংস্থা মেরুকরণজাতীয় পোস্ট আরওই ভাইরাল করে। আর এই কারণে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ও আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়”।
Published on Saturday, 10 September 2022, 1:16 am | Last Updated on Sunday, 11 September 2022, 11:15 am by Bahok Desk








