ISRO's Next Missions after Chandrayaan 3
ISRO's Next Missions after Chandrayaan 3: স্পেসে ঘুরতে যেতে পারবেন ভারতীয়রা! ইসরোর হাতে এখন গুচ্ছ পরিকল্পনা, ভারতের আগামী মিশনগুলো কি কি?, গ্রাফিক্স: বাহক

Bahok News Bureau: সম্প্রতি চন্দ্রযান ৩ উৎক্ষেপণে সার্বিক রূপে সাফল্য লাভ করেছে ভারত। তবে কাজ এখনো অনেক বাকি। একগুচ্ছ মিশন এখন ভারতের মুঠোয়। চন্দ্রযান ৩ এর সাফল্য ভারতের বাড়তি দায়িত্ব বাড়িয়েছে। “মিশন” এর ব্যাপারে ইসরো এখন আগের থেকেও অনেক বেশি সতর্ক, দৃঢ়।

চাঁদের পর সূর্য, মঙ্গল, মহাকাশ সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণার কাজ এখন ভারতের হাতে। কি কি সেই মিশন জানা যাক বিস্তারিত! (ISRO’s Next Missions after Chandrayaan 3)

Advertisements
Appy Family Salon AD Banner Use Code to get Discount

আদিত্য-এল১-২০২৩ (Aditya-L1 )

ইতিমধ্যেই আদিত্য এল১ মিশন সেরে ফেলেছে ইসরো। এই মিশনে ভারতের অন্যতম হাতিয়ার পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (PSLV)। সৌরজগৎ নিয়ে তথ্যানুসন্ধান করার জন্যই এই মিশন। মহাকাশযানটিকে পৃথিবী থেকে ১.৫ মিলিয়ন দূরে পাঠানো হয়। এল-১ কক্ষপথে অবস্থান করানোই ছিল উদ্দেশ্য। এল-১ পয়েন্ট থেকে সূর্যের উপর ‘নজরদারি’ চালান ইসরোর বিজ্ঞানীরা। এই কৃত্রিম উপগ্রহ সূর্যের ল্যাগরানগিয়ান পয়েন্ট-১ এর কাছে ফাঁপা কক্ষপথে অবস্থান করবে। এরফলে সূর্য গ্রহণ ছাড়াই যাবতীয় গবেষণা করা যাবে। করোনা সংক্রমণের জন্য এই প্রকল্প পিছিয়ে গিয়েছিল। ২০২৩ সালে তা পাঠানো হয়। ৩৭৮.৫৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল এই প্রকল্পের জন্য।

আদিত্য এল-১-এর নামকরণ করা হয়েছে সূর্যের নামে। এই অভিযানের সাফল্যে সৌরমণ্ডল ও পৃথিবীর পরিবেশের উপর সূর্যের ঠিক কী প্রভাব পড়ে সেই সম্পর্কিত বহু তথ্য সামনে আসবে।

গগনযান (Gaganyaan)

রাশিয়া, আমেরিকার মতো মহাকাশে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতেরও। সেই লক্ষ্যেই গগনায়ন (Gaganyaan) প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৫ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান থেকেই ‘গগনযান’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইসরোর ইতিহাসে এটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মিশন বা প্রকল্প হতে চলেছে। এটি একটি তিন ধাপ প্রকল্প ইসরোর। প্রথম দুই ধাপে মানবহীন মহাকাশযান পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে সাফল্য মিললে, দ্বিতীয় ধাপে মহাকাশযানে রোবট পাঠানো হবে। এই রোবটের নাম ‘ব্যোম মিত্র’।

এই দুই ধাপে সাফল্যের পর, শেষ ভাগে তিনজন মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা আছে ইসরোর। ২০২৪ সালের শুরুতেই এই অভিযান শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের ‘গগনায়ন’ অভিযানের জন্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর চার জন পাইলটকে প্রাথমিক ভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘রসকসমস’-এ তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মহাকাশে যাওয়ার জন্য বিশেষ স্পেস স্যুটও তৈরি করার বরাত দিয়েছে ইসরো।

এই অভিযান ১০০ শতাংশই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র অধীনে হতে চলেছে। সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে মডিউল কনফিগারেশনস ক্রু এসকেপ সিস্টেম, অরবিটাল মডিউল- সমস্ত কিছুই ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হবে। গগনায়ন মিশনে যুক্ত থাকবে ভারতীয় সেনা বাহিনী, নৌসেনা, উপকূলরক্ষী বাহিনী, শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান মেটেরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট, ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনও। এই প্রকল্পের বাজেট ৯ হাজার ২৩ কোটি টাকা।

লুনার পোলার এক্সপ্লোরেশন মিশন (Lunar Polar Exploration Mission)

জাপানের সঙ্গে সহযোগিতায় হতে চলেছে ইসরোর পরবর্তী চন্দ্রাভিযান। জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি বা জাক্সা ও ইসরোর মিলিত উদ্যোগে লুনার পোলার এক্সপ্লোরেশন মিশন পরিচালিত হবে। লুপেক্স মিশনের জন্য রোভার ও ল্যান্ডারও তৈরি করা হচ্ছে দুই দেশের সহযোগিতায়। নাসা ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশও থাকবে। চাঁদে জলের অস্তিত্ব, যান চলাচল ও রাত্রিযাপন করা যায় কিনা, তাই-ই খুঁজে বের করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

নিসার (NISAR) :

নাসা – ইসরোর যৌথ উদ্যোগে এবার মহাকাশ গবেষণা। ২০২৪ সালে শুরু হবে সেই মিশন। নাসা ও ইসরো যৌথ উদ্যোগে নাসা-ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার স্যাটেলাইট মিশন শুরু করবে। নিসার ইউটিলাইজেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই মিশন শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে ইসরোর তরফে। নিসার মিশনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে পৃথিবীর জটিল প্রক্রিয়াগুলি। উচ্চ রেজেলিউশনের ছবি তোলা সম্ভব হবে। নিসার এমন একটি রেডার, যা পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশে সর্বক্ষণ চোখ রাখবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও তা আভাস দিতে সক্ষম। কোথায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে চলেছে, এই কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তার পূর্বাভাস মিলবে । নিসার মিশনের মাধ্যমে দাবানলের পরিস্থিতি থেকে শুরু করে পরিবেশ দূষণের হাল হকিকতও দেখা যাবে। নিসার স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে খবর দেবে হিমবাহের পরিস্থিতিরও। অর্থাৎ বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের খুঁটিনাটিও মিলবে এই মিশনের ফলে।এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ১২ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

মঙ্গলযান-২ (Mars Orbiter Mission 2)

২০২৪ সালেই শুরু হওয়ার কথা মঙ্গলযান-২ মিশন। এটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্বারা পরিকল্পনা করা ভারতের দ্বিতীয় আন্তগ্রহ অভিযান। লাল গ্রহের পৃষ্ঠদেশের বৈশিষ্ট্য, বায়ুমণ্ডল এবং এক্সোস্ফিয়ার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে খুব শীঘ্রই মঙ্গলযান-২ পাঠাতে চলেছে ইসরো। এবারের প্রকল্পে মহাকাশযানে হাইপারস্পেকট্রাল ক্যামেরা ও radder থাকার কথা। তবে এই প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হবে, তা এখনও জানা যায়নি।

স্পেস ট্যুরিজম (Space Tourism)

আর কিছু বছর পর ভারতীয়দের ডেস্টিনেশন হতে পারে স্পেস। আর কয়েক বছর পর নাকি মহাকাশে ঘুরতে যেতে পারবেন ভারতীয়রা।এমনকী মহাকাশ ভ্রমণের জন্য টিকিটের মূল্যও ঠিক হয়ে গিয়েছে। মহাকাশযানে চেপে স্পেস স্যুট পরে ঘুরে আসতে পারবেন মহাকাশ থেকে আপনিও। এই স্পেস ট্যুরিজমের অংশগ্রহণকারীদের নাম অ্যাস্ট্রোনটদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে সরাসরি।

এমনই জানিয়েছেন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর আধিকারিকেরা। তাও আবার ২০৩০ সালের মধ্যেই। ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ জানিয়েছেন, ভারতে ‘স্পেস ট্যুরিজম’ চালুর পরিকল্পনা চলছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ২০ টনের স্পেস স্টেশন চালুর ভাবনা চিন্তা রয়েছে ভারতের। মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় থাকলে মানুষের দেহে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে তা নিয়ে চালানো হবে গবেষণা। ১৫ থেকে ২০ দিন মহাকাশচারীরা যাতে সেখানে থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থাও থাকবে।

SPADEX, বা স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট হল একটি জমজ মহাকাশযান মিশন । দু’টি স্যাটেলাইটকে একই সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো হবে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। IMS-Class (২০০ কেজি) স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হবে এই মিশনে। মহাকাশযান দু’টি ভিন্ন কক্ষপথে পাঠানো হবে। সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে স্যাটেলাইট দু’টি। একটি পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেলের সাহায্য নেওয়া হবে।

মোটের ওপর ভারতের সামনে এখন বিস্তর পথচলা। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইসরো র ” পরিণত ” হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক। সাইকেলে করে যন্ত্রপাতি বয়ে আনা থেকে শুরু করা ইসরো কিনা আর কিছু বছরেই স্পেস এ ট্যুরিস্ট পাঠাবে! ভাবা যায়! (ISRO’s Next Missions after Chandrayaan 3)

আরও পড়ুন: Henry Kissinger- Indira Gandhi: ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘অশালীন’ মন্তব্য করেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার! নাম জড়িয়েছিল গণহত্যার সঙ্গেও, জানুন বিস্তারে

আরও পড়ুন: Henry Kissinger- Indira Gandhi: ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘অশালীন’ মন্তব্য করেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার! নাম জড়িয়েছিল গণহত্যার সঙ্গেও, জানুন বিস্তারে

 

পড়ুন: বাহক ঈদ সংখ্যা ২০২৩

পড়ুন: বাহক শারদীয়া সংখ্যা / পুজো ম্যাগাজিন ১৪২৯ 

PDF টি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন – বাহক ঈদ সংখ্যা ২০২৩

ঈদ সংখ্যা কেমন লাগলো, ফেসবুক পেজ ছাড়াও নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আপনার নাম দিয়ে মতামত দিতে পারেন।

এছাড়াও আমাদের পূর্বে প্রকাশিত কিছু সংখ্যা সমূহের Pdf নিচে দেওয়া হল।

[PDF] বাহক শারদীয়া সংখ্যা (১৪২৮)

[PDF] বাহক শারদীয়া সংখ্যা / পুজো ম্যাগাজিন (১৪২৯)

Published on Friday, 1 December 2023, 1:10 pm | Last Updated on Friday, 1 December 2023, 2:20 pm by Bahok Desk