চিত্তরঞ্জনের নটবরলাল মুন্না ওরফে এমকে সিংহ। এই ব্যক্তি একাধিক ভুয়ো পরিচয়ে করেছে লাখ টাকার প্রতারণা। কখনও নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে, কখনও নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে, কখনও আবার নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় দিয়ে নিজের পরিকল্পনাকে করেছে বাস্তবায়ন। অবৈধ সিম কার্ড, ভুয়ো সাংবাদিক পরিচয় পত্র, ভুয়ো পুলিশি পরিচয় পত্র, ভুয়ো মানবাধিকার পরিচয় পত্রের সাহায্যে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে করেছে লক্ষাধিক টাকার জালিয়াতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রথমে ঝাড়খণ্ডের পুলিশ গ্রেফতার করে, পরে আইনি পদ্ধতির সাহায্য চিত্তরঞ্জন পুলিশের অধীনে কিছু দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
তদন্তে সামনে এসেছে যে, প্রায় ৭ বছর ধরে অভিযুক্ত মুন্না চিত্তরঞ্জনের বেস রোড এলাকায় বসবাস করত এবং চিত্তরঞ্জনে থাকাকালীন চিত্তরঞ্জনের ও মিহিজামের বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি চিত্তরঞ্জন সম্মান ঘাটে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন দীর্ঘদিন ডোমের কাজ করেছিল। এরই মাঝে সে নিজেকে আইনি শাস্তি থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য ভুয়ো পরিচয়ের আশ্রয় নেয়। এরপরেই, চাকরির প্রতারণাকারী এক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। অতঃপর সে প্রতারণার কাজে নেমে পড়ে এবং চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার জালিয়াতি করে। ধীরে ধীরে সে বহু টাকার মালিক হয়ে ওঠে এবং স্বচ্ছন্দের জীবন কাটাতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, তাঁর এই পরিকল্পনা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে নি। এক সময় সে ঝাড়খণ্ডের মসোলি গ্রামে বসবাস করতে শুরু করে। অবশেষে চলতি বছরের ৩১শে মে তারিখে তাঁর প্রতিবেশীরা তাঁকে ধরে বেঁধে পুলিশের হেফাজতে দিয়ে দেয়। উল্লেখ্য ওই গ্রামে অভিযুক্ত নিজের স্ত্রীর স্কুটিতে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে ভুয়ো ম্যাজিস্ট্রেট সেজে প্রতারণার কাজে নেমে পড়েছিল। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে গ্রামের বাসিন্দাদের কোনোক্রমে সন্দেহ হয় এবং অভিযুক্তকে গ্রামে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দিয়ে দেয়। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্ত মুন্নাকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, তদন্তে নেমে একাধিক ভুয়ো পরিচয়পত্র পুলিশের হাতে আসে। খবর পেয়ে চিত্তরঞ্জন পুলিশ মসোলি পৌঁছায় তদন্তে নেমে পড়ে। পরে দুমকা আদালতের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে কিছু দিনের পুলিশি হেফাজতে নেয় চিত্তরঞ্জন পুলিশ। উল্লেখ্য, চিত্তরঞ্জনের বাসিন্দা প্রিয় কুমারী অভিযুক্ত মুন্নার বিরুদ্ধে সিজিএম কোর্টে ১৫ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ইবতিসাম খান
Published on Sunday, 18 July 2021, 8:29 am | Last Updated on Sunday, 18 July 2021, 8:31 am by Bahok Desk









