Table of Contents
Nilamben Parikh Death News : মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্রী নীলাম্বেন পারিখ, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার ১লা এপ্রিল, গুজরাটের নভসারিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। নীলমবেন পারিখের শেষ যাত্রা আজ সকাল ৮টায় তার বাসভবন থেকে শুরু হয় এবং বীরওয়াল শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। নীলমবেন পারিখ একজন সত্যিকারের গান্ধীবাদী ছিলেন। তিনি তার গোটা জীবন দক্ষিণপথে কাজ করে কাটিয়েছেন। এই সংগঠনটি তিনি আদিবাসী মহিলাদের শিক্ষিত করে তোলার জন্য এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সর্বদা নারী কল্যাণ এবং মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। নীলাম্বেন পারিখ ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর পুত্র হরিলাল গান্ধীর নাতনী। তিনি নভসারী জেলার অলকা সোসাইটিতে তার ছেলে ডঃ সমীর পারিখের বাড়িতে থাকতেন। মহাত্মা গান্ধীর ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে, ২০০৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী, নীলাম্বেন পারিখ শ্রদ্ধার সাথে বাপুর শেষ অবশিষ্ট চিতাভস্ম বিসর্জন দেন। এই বিসর্জনটি মুম্বাইয়ের কাছে আরব সাগরে হয়েছিল। এই উপলক্ষে, গান্ধীজির অনুসারী এবং পরিবারের সদস্যরাও তাকে শ্রদ্ধা জানান।
নীলাম্বেন পারিখের পুত্র কী বললেন?
নভসারিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত নীলাম্বেন পারিখের পুত্র ডাঃ সমীর পারিখ জানা যে, তার মা ব্যথা ছাড়াই এবং শান্তিতে মারা গেছেন। তিনি বলেন, “আমার মা কোনো অসুস্থতায় ভুগছিলেন না কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বয়সের কারণে খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার অস্টিওপোরোসিস ছিল এবং ধীরে ধীরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আজ সকালে, আমি হাসপাতালে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি তার পাশে বসে তার হাত ধরেছিলাম। ধীরে ধীরে আমি অনুভব করলাম তার নাড়ির স্পন্দন কমে গেছে এবং তিনি কোনো কষ্ট বা ব্যথা ছাড়াই মারা গেছেন”।
তাঁর আরও সংযোজন, “তিনি কখনো তার পরিবারের উপর গান্ধীবাদী আদর্শ চাপিয়ে দেননি। আমার বাবা যোগেন্দ্রভাই ও মা নীলমবেন, গ্রামাঞ্চলে সেবা করে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা প্রথমে সৌরাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চলে থাকতেন এবং কিছু সময়ের জন্য বিনোবা ভাবের ভূদান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কয়েক মাস ধরে তারা ওড়িশার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করতেন এবং ১৯৬২ সালে দক্ষিণ গুজরাটের ব্যারায় চলে আসেন। প্রথমে তাপী জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে একটি স্কুল শুরু করেন, কিন্তু পরে ব্যারায় দক্ষিণপথের অবসর গ্রহণের আগে পর্যন্ত স্কুল কোয়ার্টারে থাকতেন। আমার বাবা-মা কখনও টাকার জন্য কাজ করেননি।”
নীলাম্বেনের খুতুত ভাই কী বললেন?
নীলাম্বেনের খুতুত ভাই এবং ইতিহাসবিদ তুষার গান্ধী বলেন যে, দুজনের বয়সের ব্যবধানের কারণে নীলাম্বেন সবসময় তাকে “বড় ভাই” মনে করতেন। নীলাম্বেন মহাত্মা গান্ধীর উত্তরাধিকার প্রকৃত অর্থে পালন করেছিলেন। তিনি তার সারা জীবন গুজরাটের আদিবাসী এলাকায় শিক্ষকতা করে কাটিয়েছেন। তার কোমল কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা। তিনি আরো বলেন, চন্দ্রকান্ত কুলকার্নি পরিচালিত মারাঠি নাটক, গান্ধী বিরুদ্ধ গান্ধীতে যখন মহাত্মা গান্ধী এবং হীরালালের মধ্যে জটিল সম্পর্ক তুলে ধরা হয়, তখন নীলাম্বেন বিরক্ত হয়ে “গান্ধী’স লস্ট জুয়েল: হীরালাল গান্ধী” বইটি তার দাদুর জীবনী হিসেবে লেখেন। এরপর তা ২০০৭ সালে ফিরোজ আব্বাস খানের “গান্ধী মাই ফাদার” নামে একটি হিন্দি চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছিল। তিনি আরো একটি বই লিখেছিলেন, যার শিরোনাম ছিল ‘জ্ঞান রহো ত্যান মেহকতা রহো’।
কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী করলেন শোক প্রকাশ
গত মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল ইনস্টাগ্রামে নীলাম্বেনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্রী এবং হরিদাসভাইয়ের নাতনির মৃত্যুর খবর হৃদয়বিদারক। গান্ধীবাদী আদর্শ এবং মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তিনি তার পুরো জীবন মানুষ এবং মহিলাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যু সমাজে এক শূন্যতা তৈরি করেছে।”
read more
Published on Wednesday, 2 April 2025, 2:33 pm | Last Updated on Wednesday, 2 April 2025, 2:33 pm by Bahok Desk









