Table of Contents
Bahok News Bureau: চলতি বছরের ২১শে মার্চ, রাজ্যসভায় রানা সাঙ্গা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামজি লাল সুমন (Ramji Lal Suman)। তার এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) রামজি লাল সুমনের বাড়িতে হামলার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, “সংবিধান এটির অনুমতি দেয় না। চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় বলেন, রানা সাঙ্গা দেশপ্রেমের প্রতীক এবং তাঁর সম্পর্কে করা অশালীন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।” চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত।
রানা সাঙ্গা সম্পর্কে রামজি লাল কী বলেছিলেন?
আসলে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামজি লাল সুমন (Ramji Lal Suman) চলতি বছরের ২১শে মার্চ রাজ্যসভায় রানা সাঙ্গা সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, “এটা বিজেপির লোকদের একটা প্রবাদ বাক্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মুসলমানদের মধ্যে বাবরের ডিএনএ আছে। কিন্তু ভারতের মুসলমানরা বাবরকে তাদের আদর্শ মনে করে না, তারা মহম্মদ সাহেবকে তাদের আদর্শ মনে করেন।’ রানা সাঙ্গা, ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করার জন্য বাবরকে ভারতে ডেকেছিলেন, তাই মুসলমানরা বাবরের সন্তান হলে তোমরা বিশ্বাসঘাতক রানা সাঙ্গার সন্তান।” তারই বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এরপর আগ্রায় করণী সেনা কর্মীরা তার বাসভবনে হামলা চালায়।
কিরেন রিজিজু এবং প্রমোদ তিওয়ারি কী বললেন?
রামজি লাল সুমনের সেই মন্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “যদি কেউ এই সংসদে দেশের বীরকে অপমান করে। আমি বিশ্বাস করি না যে, এই সমস্যাটি কেবল আমাদের সুমনজির। তিনি একজন খুবই সিনিয়র নেতা, কিন্তু রানা সাঙ্গা সম্পর্কে তিনি যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। তার বক্তব্য কেউ কীভাবে মেনে নিতে পারে? তাই আমি বলছি যে, ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স এবং কংগ্রেসের নেতাদের এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।” কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, “সংসদের কার্যবিবরণী থেকে যা মুছে ফেলা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়, কিন্তু একই কথা পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই যে রানা সাঙ্গা এই দেশের নায়ক ছিলেন। তিনি সাহসী বীর। রানা সাঙ্গা কোনো জাতি বা ধর্মের নায়ক নন। তিনি দেশের নায়ক।”
“সাংসদের বাড়িতে হামলার নিন্দা জানাই” – খাড়গে
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ”আপনি যা বলেছেন, আমি তা স্বাগত জানাই। এই দেশের যারা দেশপ্রেমিক, যারা দেশের জন্য লড়াই করেছেন, তাদের আমি সম্মান করি, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবে এবং কারো বাড়ি ভাঙচুর করবে কিংবা সম্পত্তি ধ্বংস করবে। আমরা এটা কখনোই মেনে নেবো না। আমি এর নিন্দা জানাই। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি একমত, কিন্তু সেই বিষয়টি উত্থাপন করে তারা তার বাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। দলিতদের বিরুদ্ধে এই অপমানজনক ঘটনা আমরা কখনই সহ্য করব না। তাদের সুরক্ষা বাড়াতে হবে।”
রাধামোহন দাস আগরওয়াল রামজি লাল ও খাড়গে-র উপর রেগে গেলেন
বিজেপি সাংসদ রাধামোহন দাস আগরওয়াল রামজি লাল সুমনের বক্তব্যের বিষয়ে বলেন যে, তিনি যদি এটা বুঝতেন, তাহলে তিনি সংসদের ভেতরে বা বাইরে স্পষ্ট করে বলতেন যে, তিনি এটা বলতে চাননি। তাহলে সেইদিনই বিষয়টি মিতে যেতো। কিন্তু তিনি বলেন, “আমি মরে যাব, কিন্তু আমার কথা ফিরিয়ে নেব না। যতদিন বেঁচে থাকবো, আমি এটা আর ফিরিয়ে নেব না।” এর থেকে বোঝা যায় যে, তিনি যা বলেছেন, তা ভেবে-চিন্তে বলেছেন। পরিকল্পিতভাবে বলেছেন। এটি ইন্ডিয়া জোটের মানসিকতা প্রকাশ করে। একজন সদস্যের কাজ একবার উপেক্ষা করা যেত, কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা এই সংসদে যা বলেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি অপরাধীদের পূর্ণ সুরক্ষা দিচ্ছেন। তারা আবারও রানা সাঙ্গাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দলিত সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত করে অপমান করেছে। এটা কংগ্রেসের সুচিন্তিত উদ্দেশ্য। আম্বেদকর বলেছিলেন যে, যাই ঘটুক না কেন, কেউ কখনো কংগ্রেসে ফিরে যেতে পারে না। রামজি লাল সুমন এবং কংগ্রেস দলের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
read morePublished on Friday, 28 March 2025, 7:44 pm | Last Updated on Friday, 28 March 2025, 7:44 pm by Bahok Desk









