Table of Contents
Mamata Banerjee Oxford University: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর জোনাথন মিচির আমন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কে কেলগ কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে চরম বিক্ষোভের মুখোমুখি হন। গত বৃহস্পতিবার অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন নিয়ে বলতে গেলে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একের পর এক প্রশ্ন করে এসএফআই সমর্থকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর পাল্টা জবাব দেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত।
কী ঘটেছে?
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরু থেকে সর্বধর্ম সমন্বয়, ঐক্য়ের বার্তা, এমনকি কন্যাশ্রী প্রকল্পকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের প্রসঙ্গ তুলতেই দর্শকের আসনে উপস্থিত কয়েকজন তাকে প্রশ্ন করেন, আর তারপরই পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করে। মমতাকে আর জি কর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি জানেন, মামলাটি বিচারাধীন এবং এটা কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে নিয়েছে, এটা আর আমাদের কাছে নেই। দয়া করে এখানে রাজনীতি করবেন না, এটা রাজনীতি করার জায়গা নয়। সেটা আপনারা আমার সঙ্গে আমার রাজ্যে এসে করতে পারেন, এখানে নয়। এটা নাটকের মঞ্চ নয়। এখানে আপনারা আমাকে এবং আপনাদের প্রতিষ্ঠানকে অপমান করছেন।”
এরপর হিন্দু প্রসঙ্গ উঠতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সবার জন্য, আমি সবার জন্য, আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ, সাঁই, আমি সবার জন্য, আমি ঐক্যের পক্ষে, আপনারা নন। আপনারা আমার ভাই-বোনেরা এখানে রাজনীতি করবেন না। এটা ঠিক নয়। আমি প্রতি বছর দুই বার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার চেষ্টা করবো। আপনারা আমাকে সেই অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং আপনারা আমাকে উদবুদ্ধ করেছেন। দিদি কাউকে গ্রাহ্য করে না। দিদি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো কাজ করে। আমাকে ধরতে পারলে ধরুন, কিন্তু আমার সঙ্গে লড়তে আসবেন না।” এরপরই মমতার বিরুদ্ধে ওঠে গো ব্যাক স্লোগান।
এসএফআই এর বক্তব্য
মুখ্যমন্ত্রী মমতার বক্তৃতার সময় বিক্ষোভ দেখানোর কথা স্বীকার করে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর ইউকে শাখা সোশাল মিডিয়ায় লিখেছে, “স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া – ইউনাইটেড কিংডম আজ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্য়ালয়ের কেলগ কলেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতার সময় বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তিনি যে মিথ্যাগুলো বলে যাচ্ছিলেন, আমরা প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করি। তিনি পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক উন্নয়নের যে দাবিগুলো করছিলেন, আমরা তার প্রমাণ চাই, কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশ করতে দেওয়ার পরিবর্তে, পুলিশ ডাকা হয়। আরজিকরবকাণ্ড, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র, বাংলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পের দুরাবস্থা নিয়ে মমতা ব্যানার্জি এবং ওনার দলকে এসএফআই প্রশ্ন করবেই। থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে কথা হবেই।
তীব্র প্রতিক্রিয়া
এসএফআই এর এই বিক্ষোভের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিপিএমকে আক্রমণ করেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আর জি কর ই্স্যু গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, এটা সত্যি, কিন্তু অক্সফোর্ডে কোনো সাধারণ নাগরিক বিক্ষোভ দেখাননি। দেশকে বেইজ্জত করার জন্য এটা এসএফআই এর নতুন ছক।” কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, অক্সফোর্ডে ছ’টা বাম-রামের পরিকল্পিত অসভ্যতা উড়িয়ে ছক্কা হাঁকালেন মমতা।” সৌগত রায় বলেন, “অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে গেছিলেন। তার সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তার কড়া নিন্দা করছি।” তৃণমূল নেতা সুদীপ রাহা সোশাল মিডিয়ায় পোস্টে লেখেন, “বাংলায় পারেনি। দেশে পারেনি। লন্ডনে পারেনি। ওরা অক্সফোর্ডে গিয়ে দিদিকে থামাতে চাইছে। ওরে, মমতা একটা লড়াইয়ের নাম। এ লড়াই থামানো যায় নি, যায় না, যাবে না। জ্বলে ওঠো দিদি। তুমি বাংলার আগুন। তুমি দেশের আলো।”
read morePublished on Friday, 28 March 2025, 5:03 pm | Last Updated on Friday, 28 March 2025, 5:03 pm by Bahok Desk









