
Bahok News Bureau: জোর করে সন্তান কেড়ে নেওয়ার ঘটনা যে কোনো মায়ের কাছেই দুঃস্বপ্ন। সেই দুঃস্বপ্নই ধরা দিল রানী মুখার্জী অভিনীত ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’-এর ট্রেলারে। যা প্রকাশ্যে আসতেই সাড়া ফেলে দিয়েছে দেশজুড়ে। সিনেমাটি মূলত সত্য ঘটনা অবলম্বনে। কাহিনীর মূলে রয়েছেন কলকাতার এক মা ও নরওয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর সংঘর্ষ। জানেন কি বাস্তবের মিসেস চ্যাটার্জির পরিচয়? চলুন আসল কাহিনীতেই একটু উঁকি মেরে নেওয়া যাক।
মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে:
‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ (Mrs Chatterjee Vs Norway) সিনেমায় রানী মুখার্জী একজন মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ট্রেলারে দেখা যায়, নরওয়ের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সিস্টেম বলপূর্বক তাঁর কাছ থেকে তাঁর সন্তানকে কেড়ে নিয়ে চলে যায়। এরপরে পুরো প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মিসেস চ্যাটার্জির সংঘর্ষের কাহিনীকে কেন্দ্র করে পুরো সিনেমা আবর্তিত। এই কাহিনী কলকাতার (Kolkata) মহিলা সাগরিকা ভট্টাচার্যের সংঘর্ষের কাহিনী দ্বারা অনুপ্রাণিত।

মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে সিনেমার আসল কাহিনী:
সাগরিকা ভট্টাচার্য ২০০৭ সালে নরওয়ের জিওফিজিসিস্ট অনুরূপ ভট্টাচার্যের (Anurup Bhattacharya) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সুখে দুইজনে বিবাহিত জীবন শুরু করেন নরওয়েতে। ২০০৮ সালে সাগরিকা ভট্টাচার্য অন্তঃসত্ত্বা হন এবং অভিজ্ঞান নামক এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান প্রসবের পরে প্রায় এক বছরের মতো তিনি কলকাতাতেই থাকেন এবং ঠিক এই সময়েই অভিজ্ঞানের মধ্যে ‘অটিজম’-এর লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে অভিজ্ঞানকে নিয়ে নরওয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন সাগরিকা।
২০১০ সালে সাগরিকার এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। অনুরূপ কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকতেন। এইসবের মাঝে অচেনা জায়গাতে দুই সন্তানদের দেখাশোনা করতেন ও সংসার সামলাতেন সাগরিকা। অভিজ্ঞানের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ আরও প্রকাশ পেতে শুরু করে। স্বাভাবিক কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও দেওয়ালে মাথা ঠোকার মতো ঘটনা দেখা দেয় অভিজ্ঞানের জীবনে।
নরওয়ের ‘শিশু সুরক্ষা আইন’ (Child Protection Laws) খুবই কড়া। এই আইনের অধীনে মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে, কোনোভাবেই শিশুদের প্রভাবিত করা যাবে না। ধরা পড়লে সিডব্লিউএস (CWS) তথা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিস (Child Welfare Services) সোজা পরিবারের দরজায় কড়া নাড়তে পারে এবং মায়ের কোল থেকে দুধের সন্তানকেও কেড়ে নিয়ে চলে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সন্তানের সঙ্গে অপব্যবহার ও মানসিক সংযোগে বিচ্ছিন্নতা দেখা দেওয়ার অভিযোগে নরওয়ের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিস তাঁদের কাছ থেকে সন্তানদের নিয়ে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। এই নিয়ম শিশুদের ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী।
এরপরে শুরু হয় সাগরিকার দুই বছরের দীর্ঘ আইনি যুদ্ধ। নরওয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সাগরিকা যুদ্ধে নেমে পড়েন। সাগরিকার পাশে দাঁড়ায় ভারত সরকারও। অবশেষে, ২০১২ সালে এপ্রিল মাসে সাগরিকার ও অনুরূপের সন্তানরা ভারতে ফিরে আসে। এই দীর্ঘ সংঘর্ষে সাগরিকা ও অনুরূপের বিবাহিত জীবনে ফাটল দেখা দিলেও, সাগরিকার সন্তানদের ফিরে পাওয়ার ইচ্ছায় একটুও কমতি দেখা যায়নি।

আইনি সংঘর্ষ চলাকালীন সাগরিকাকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণিত করা হয়। এর ফলস্বরূপ, প্রথমে সাগরিকার সন্তানেরা সাগরিকার কাছে থাকার সুযোগ পায়নি। নরওয়ের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিস অভিজ্ঞান ও তাঁর বোনকে অভিরূপের বাবা-মায়ের হেফাজতে রেখে দেয়। অবশেষে, ২০১৩ সালে সাগরিকা তাঁর সন্তান-সন্ততিদের ফিরে পায়। বর্তমানে সাগরিকা নিজ সন্তানদের নিজেই দেখাশোনা করেন এবং তাদেরকে নিয়ে কলকাতার এক বাড়িতে বসবাস করেন।

Published on Sunday, 26 February 2023, 4:12 pm | Last Updated on Monday, 27 February 2023, 7:36 pm by Bahok Desk









