বাহক নিউজ় ব্যুরো: প্রায়শই দেখা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষা ও কঠোর পরিশ্রমের পেরিয়ে অলিম্পিকে জয়ী খেলোয়াড়রা নিজ পদককে দাঁতের দুই পাটির মাঝে রেখে কামড় পোজ দিচ্ছেন। কিন্তু, তাঁরা এমনটা কেন করেন? এই নিয়ে মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে। সঙ্গে নিয়ে এসেছি এরই সম্ভাব্য উত্তর। এই ব্যাপারটি এমনই আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে যে, অবশেষে রবিবারে টোকিও ২০২০ অ্যাকাউন্ট টুইটারে জানাতে বাধ্য হলেন যে ওই পদকগুলি ভোজ্য নয়।
টুইটারে টোকিও অলিম্পিক ২০২০-এর তরফে লেখা হয় যে, “আমরা অফিসিয়ালি কনফার্ম করতে চাই যে, #টোকিও২০২০ পদকগুলো মোটেই ভোজ্য নয়”। তারা আরও জানান, “জাপানের অধিবাসীদের দ্বারা দান করা ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক যন্ত্রাদিগুলোকে পুনর্ব্যবহার করে আমাদের পদকগুলি বানিয়েছি”।
কিন্তু, কেন অলিম্পিক বিজয়ী খেলোয়াড়রা তাঁদের পদক কামড়ের মধ্যে দিয়ে তাঁদের জয় উদযাপন করেন? এর উত্তরে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ অলিম্পিক হিস্টোরিয়ান-এর একজিকিউটিভ কমিটির মেম্বার ডেভিড ওয়ালেনচিস্কি ২০১২ সালে এক খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, অলিম্পিক পদকজয়ীরা এই আচরণ করেন সম্ভবতঃ মিডিয়াকে পরিতৃপ্ত করার জন্য।
‘দ্য কমপ্লিট বুক অফ দ্য অলিম্পিক্স’-এর সহ-লেখক ওয়ালেনচিস্কি বললেন, “বর্তমানে এই ব্যাপারটি ফটোগ্রাফারদের কাছে অনেকটা বদ্ধসংস্কার হয়ে গেছে। তাঁরা ভাবেন যে, তাঁরা একটি আইকনিক শট নিয়েছেন। যেটা, তাঁরা সম্ভবতঃ বিক্রি করতে পারবেন। আমার মনে হয় না যে, এই ধরণের আচরণ খেলোয়াড়রা নিজে থেকে করবে”।
উল্লেখ্য, পদকে কামড় দেওয়ার এই ঘটনা শুধুমাত্র অলিম্পিকেই সীমাবদ্ধ নেই যদিও। এই ব্যাপারে সবার আগে উঠে আসে টেনিস খেলোয়াড় রাফাল নাদাল-এর নাম। এর কারণ হল, একটি ফটোতে দেখা গেছে, ফ্রেঞ্চ ওপেন মেন’স সিঙ্গেল ট্রফিতে তিনি যখন বিজয়ী হন, তখন এমনভাবে নিজের ট্রফিকে কামড় দিয়েছিলেন, যেন সেই ট্রফির একটি খণ্ড তিনি ভেঙেই নিতে চান। উল্লেখ্য, খেলায় বিজয়ী হওয়া ছাড়াও তাঁর এই রকম ফটোর জন্য তিনি শিরোনামেও এসেছিলেন।
উল্লেখ্য, ভিন্ন জনে ভিন্নভাবে তাঁদের পদককে গুরুত্ব দেন। কেউ বস্তুবাদীভাবে গুরুত্ব দেন, কেউ সাজিয়ে রাখেন, কেউ কোথাও লুকিয়ে রাখেন, কেউ যেখানেই যাবেন, সেখানে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনী পদ্ধতি খোঁজেন। কিছু মানুষ আবার, সেই পদক দিয়েই জাগতিক মোহের পরিবর্তে অন্য মানুষের কষ্ট নিবারণের চেষ্টা করেন। যেমনটা করেছিলেন বক্সার ভ্লাদিমির ক্লিচস্কো। তিনি ১৯৯৬ সালে আটলান্টায় জেতা তাঁর স্বর্ণপদক ১ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন এবং সেই টাকা তিনি তাঁর ভাই ভিতালিকে দিয়েছিলেন, যাতে তাঁর দেশ ইউক্রেনের দরিদ্র বাচ্চাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলায় সাহায্য করতে পারা যায়। এছাড়াও, ইউএস সাঁতারু অ্যান্থনী এরভিন ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে হওয়া সুনামির শেষে বেঁচে থাকা মানুষদের সাহায্য করার জন্য অলিম্পিক ২০০০-এ জয় করা নিজের স্বর্ণপদক ই-বে (e-Bay)-তে নিলামে বিক্রি করে দেন।
Published on Saturday, 31 July 2021, 1:53 pm | Last Updated on Monday, 2 August 2021, 11:15 pm by Bahok Desk










