রমেন দাস: এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়! ঘটনা পরম্পরা এবং শুক্রবারের পার্থ, অর্পিতা-কাণ্ডের পরে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য তথা দেশজুড়ে। বিপুল পরিমাণে টাকা কার? বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মধ্যেই এবার উদ্ধার হওয়া টাকার মালিকানা নিয়েই বাঁধল গোল। প্রসঙ্গত, শুক্রবার জোকা ইএসআই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে কলকাতার ব্যাংকশাল আদালতে পেশ করা হয় দুই অভিযুক্তকে।
আদালতের বিচারক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর অভিযুক্ত সঙ্গিনী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পার্থ, অর্পিতার আইনজীবী তাঁদের মক্কেলের জামিনের আবেদন করলেও তা নাকচ করেন বিচারক। এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইডি) তরফে আইনজীবীর পেশ করা যুক্তিতেই মত দিয়েছেন বিচারক। শুক্রবারই ইডির হেফাজত থেকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে দু’জনকে। সেখানেই ইডি আধিকারিকরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে খবর।
আরও পড়ুন :Cabinet Reshuffle: ব্যাপক ‘রদবদল’ মমতার ক্যাবিনেট, কে কে রয়েছেন এই তালিকায়?
কিন্তু এই পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও জল্পনা শুরু হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, যে টাকা উদ্ধার হয়েছে তা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নয়, উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ ‘আনক্লেইম’। অর্থাৎ প্রায় ৫০ কোটি টাকা, কয়েক কোটি টাকার সোনা, রূপো কারওর না! দাবিহীন! এমনকি অর্পিতার একাধিক জীবনবিমায় পার্থর নমিনি হওয়া প্রসঙ্গে ওই আইনজীবী দাবি করেন, এটা সম্ভব নয়। আর এত ফ্ল্যাট, বাড়ি, কোম্পানি ? সেই প্রসঙ্গে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীর দাবি, সমস্ত কাগজ আসল না হতেই পারে। সবটাই তৈরি করা হতে পারে! এখানেই উঠছে প্রশ্ন, তাহলে কুবেরের ধনের মালিক কে!
অর্পিতা দাবি করেছিলেন, সমস্ত পার্থর টাকা, তাঁর ফ্ল্যাটে রেখে আসতেন পার্থর কর্মীরা। পার্থ দাবি করে বসলেন, অর্পিতাকে চেনেনই না, শুধুই নাকতলার পুজোয় দেখেছেন কয়েকবার। আবার অর্পিতা ‘পার্থ স্যরে’র সামনেই হাউ হাউ করে কাঁদলেন। সেই স্যর অর্থাৎ একদা দাপুটে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা পার্থ, প্রভাবশালী না থাকার জন্য ছাড়তে চাইলেন বিধায়ক পদও। শুক্রবারের ঘটনা পরম্পরা এবং মোদী মমতা বৈঠকের সেটিং তত্ত্বের মধ্যেই লাইলাইটে চলে এসেছে এই টাকা, সম্পত্তির প্রসঙ্গ। বিরোধীদের দাবি, এই প্রভাবশালী না থাকার দাবি করে জামিন পেতে চাইছেন, ওটা হলেই আবার স্বমহিমায় ফিরবেন।
আরও পড়ুন : TT team: অপ্রতিরোধ্য বিজয়রথ, বার্মিংহামে টেবিল টেনিসে পঞ্চম সোনা জয় করল ভারত
বেনামি সম্পত্তি, মালিকহীন টাকার এই কারবার সমগ্র ভূ-ভারতে কোনও কেলেঙ্কারিতে ঘটেছে কি না, তা মনে করতে পারছেন না রাজনীতির কারবারিরাও। কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বাম, বিজেপি। বামেদের দাবি, মোদী মমতা মিটিং সেটিংয়ের মধ্যেই এসব হবে। টাকা কি তাহলে ভূতের! বিজেপির তরফে দাবি, সেটিং তত্ত্ব মিথ্যা, এর শেষ দেখেই ছাড়বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যদিও টাকা কার, এই ইস্যুতেই শুরু হয়েছে টানাপড়েন।
৫০০ দিনের বেশি লড়াই, প্রতিবাদ, আন্দোলন, কোটি কোটি টাকার নিয়োগ দুর্নীতি কি এভাবেই চাপা পড়বে? ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়া অযোগ্যরা বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাবেন, আর পথেই পড়ে থাকবেন ওঁরা? প্রশ্ন উঠছে আবার। সারদা, নারদার মতো মন্থর হবে না তো এই তদন্তও? টাকার মালিকানার আঁধারে লুকিয়ে যাবে আসল ইস্যু? প্রশ্ন, উদ্বেগ একাধিক উঠলেও টাকা কার, এই সমস্বরের চিৎকারেই আসল প্রশ্নই উত্তর হারাচ্ছে বারবার। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
Published on Friday, 5 August 2022, 7:19 pm | Last Updated on Friday, 5 August 2022, 7:19 pm by Bahok Desk









