Table of Contents
Alpha Gal Syndrome: এবার রেড মিট খেলেই শরীরে দেখা দেবে এক বিশেষ ধরনের অ্যালার্জি, যার নাম ‘আলফা-গ্যাল সিনড্রোম’। এটি এমন এক ধরনের অসুখ, যা বাড়ায় প্রাণহানির ঝুঁকি। আমেরিকার ‘সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’, এই রোগটির বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, পাঁঠার মাংস থেকে শুরু করে বিফ, পর্ক, ভেড়া এবং খরগোশের মাংস খেলেই এই ধরনের রোগ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মহিলা ও পুরুষরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এই সংক্রমণ এর খবর পাওয়া গেছে আমেরিকার নানা জায়গায়। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়াতেও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে।
আলফা-গ্যাল সিনড্রোম
‘আলফা-গ্যাল সিনড্রোম’ নামক রোগে মানুষের শরীরে ‘গ্যালাকটোজ় আলফা-১, ৩-গ্যালাকটোজ়’ নামে এক রকম ‘অ্যালার্জেন’ তৈরি হয়, যা এই অ্যালার্জির মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে। মাংস খাওয়ার ৩ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং সারা গায়ে চুলকানি, ঠোঁট ও চোখের পাতা ফুলে যাচ্ছে, শরীরের গ্রন্থিগুলি ফুলে লাল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথা হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যনালিতে ধরা পড়েছে সংক্রমণ। আবার অনেকে ‘অ্যানাফাইল্যাক্সিস’-এ আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এটি এমন এক ধরনের অ্যালার্জি, যাতে রক্তচাপ হঠাৎ করে কমে যেতে পারে, একনাগাড়ে বমি হয়ে যায়, ওষুধ খেলেও ডায়েরিয়া সারে না। এর ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং প্রাণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কী থেকে ঘটছে সংক্রমণ?
গবেষকদের মতে, এখন কাঁচা মাংসে ‘এক্সোডেস স্ক্যাপুলারিস’ নামক এক ধরনের ‘টিক’ বা পোকা জন্মাচ্ছে, যার থেকেই এই বিরল রোগ ছড়াচ্ছে। মূলত বন্যপ্রাণীর শরীরে এই ধরনের পোকা জন্মায়। এই পোকা, পশুর শরীরে পরজীবী হিসেবে বাসা বাঁধে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করে। এরপর পশুর থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষকদের মতে, এই পোকা কাঁচা মাংস থেকেই মানুষের শরীরে ছড়াচ্ছে। আসলে ঠিকমতো রান্না করে মাংস সেদ্ধ না করে খেলে, আলফা-গ্যাল অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রক্রিয়াজাত মাংস থেকে এই অ্যালার্জি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
রোগ নিরাময়ের উপায় কী?
‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অ্যালার্জি, অ্যাজ়মা অ্যান্ড ইমিউনোলজি’ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ‘আলফা-গ্যাল অ্যালার্জি’ টিক থেকে ছড়াচ্ছে, যা ‘রেড মিট অ্যালার্জি’ নামে পরিচিত। তবে, অনেকে মাংস ছাড়াও দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকেও এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। গবেষকদের মতে, এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং আইজিই অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতে হবে, যেখানে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা ধরা পড়বে। রোগের যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর প্রাণহানির ঝুঁকি কমবে বেশখনিক।
read morePublished on Tuesday, 25 March 2025, 6:03 pm | Last Updated on Tuesday, 25 March 2025, 6:03 pm by Bahok Desk









