Table of Contents
Teacher Show Cause Notice: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জারি করা নয়া নির্দেশিকায় ধর্মঘটের দিনে শিক্ষকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, প্রধান শিক্ষকরাঅনুপস্থিত শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবেন, তবে আইন বিশেষজ্ঞরা এবং আদালতের পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক বা স্কুল পরিচালন সমিতির তরফে সরাসরি এই ধরনের নোটিশ জারি করার এক্তিয়ার নেই। আর এবার সেই বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক ও আইনি জটিলতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত (Teacher Show Cause Notice)।
পর্ষদের নয়া নির্দেশিকা জারি, শুরু হয়েছে বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, সম্প্রতি ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে যে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে সরাসরি প্রধান শিক্ষকদের অনুপস্থিত শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। এই নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জট এবং শুরু হয়েছে বিতর্ক। আইন অনুসারে, পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া প্রধান শিক্ষকের সরাসরি নোটিশ জারির এক্তিয়ার নেই, কিন্তু সরকারি নির্দেশিকা এবার সেই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে কলকাতা হাইকোর্টের একটি শুনানিতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আইনজীবী বলেছিলেন যে, স্কুল কর্তৃপক্ষ সরাসরি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করতে পারে না। তারা কেবল পর্ষদ এবং জেলা স্কুল পরিদর্শককে অভিযোগ জানাতে পারে। তবে, এবার পর্ষদের জারি করা নির্দেশিকা মেনে যদি প্রধান শিক্ষকরা সরাসরি শো-কজ নোটিশ জারি করেন, তবে সেই নোটিশের আইনি বৈধতা নিয়ে উঠতে পারে প্রশ্ন। আর সেক্ষেত্রে শিক্ষকরা যদি সেই নোটিশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে বাড়তে পারে আইনি জটিলতা। তাই এই বিষয় নিয়ে রাজ্যের প্রধান শিক্ষকরা রীতিমতো বিভ্রান্ত। তারা এখন পড়েছেন উভয়সঙ্কটে।
আইনি প্রক্রিয়া কী?
রাজ্যের স্কুলগুলিতে যদি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনোরকম অভিযোগ ওঠে, তবে তার নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট আইন ও নিয়মাবলী রয়েছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। আর স্কুলের পরিচালন সমিতি বা প্রধান শিক্ষক কেবল সেই অভিযুক্ত শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের থেকে জবাব চাইতে পারেন। স্কুলের পরিচালন সমিতি যদি মনে করে যে, সেই অভিযুক্ত শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তবে তারা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের সকল তথ্যপ্রমাণ সহ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য “প্রথম অনুমোদন” চাইতে হবে। এরপর পর্ষদ সেই আবেদন খতিয়ে দেখার পর যদি অনুমোদন দেয়, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। যদি পর্ষদের তরফে কোনো অনুমোদন না দেওয়া হয়, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশ আইনিভাবে বৈধ হবে না (Teacher Show Cause Notice)।
Published on Wednesday, 9 July 2025, 11:51 am | Last Updated on Wednesday, 9 July 2025, 11:51 am by Bahok Desk









